খুব তাড়াতাড়ি ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টায় আছি: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, আমরা যে সময়টিতে দায়িত্ব নিয়েছে তখন সারা বিশ্বে করোনা মহামারি শুরু হয়েছে। তারপর রাশিয়া-উইক্রেন যুদ্ধ। যার প্রভাবে দেশের সব ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য তালমাটাল।  সে অবস্থা থেকে পুঁজিবাজারকে সুরুক্ষা দিতেই ফ্লোর প্রাইস দেয়া হয়েছে। এখন আমাদেরও চেষ্টা যত তাড়াতাড়ি ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া যায়।

অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভবনা নিয়ে মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন পুঁজিবাজারকে একটু শক্ত অবস্থার পাশাপাশি  মানুষের পুঁজির নিরাপত্তা অনুভব করি যে তারা বিপদে পড়বে না, সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেবো। খুব তাড়াতাড়ি ফ্লোর প্রাইস দেওয়ার চেষ্টা আমাদের মধ্যে আছে।’

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘অর্থনীতিতে একটা মহাবিপর্যয় আসতে যাচ্ছে, এটা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। রিজার্ভের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ রেট ভোলাটিলিটি শুরু হয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে পুঁজিবাজারে ইনডেক্স কমে যাওয়া শুরু করে। তখন বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরপত্তার কথা বিবেচনা করতে হয়েছে।

’আমরা চাইনি আমাদের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর বড় ধরনের কোনো ধাক্কা আসুক। সে কারণে ইচ্ছা না থাকা স্বত্ত্বেও আমরা সেসময় ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেই। আমরা কখনো চাইনি ফ্লোর প্রাইস দিতে।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ২৬-২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা সরকারের কাছে দিয়েছি। বলেছি, এ প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে আসা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছেও দিয়েছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে শিগগির বসবো।

ইআরএফের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চলনায় সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ইআরএফের সদস্য মুহাম্মদ মোফাজ্জল।

‘যখন শুরু করেছিলাম তিন বছরে একটা স্বাভাবিক সময় পাইনি, সব সময় প্রবলেম। আগামী ছয়মাস পর নির্বাচন। তিন বছর করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সামনের ছয়মাস নির্বাচন। বাজারে স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যে করার সুযোগ তৈরি করবো, সেই সুযোগও পাচ্ছি না। এ রকম একটা মুহূর্তে আমরা যে মার্কেট ধরে রেখেছি, রাখার চেষ্টা করছি, এটা খুব কঠিন কাজ, বলেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতি অনেক  এগিয়ে গেছে। সে অনুপাতে পুঁজিবাজার এগিয়ে নিতে হলে আরও অনেক পরিবর্তন আনতে হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান হাফিজ মোহাম্মদ হাসান বাবু বলেন, পুঁজিবাজারে চারটি চ্যালেঞ্জ আছে।  এগুলোর সমাধান করা গেলে পুঁজিবাজারকে আরও এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসান ইমাম প্রমুখ।