তফসিলি ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলমান করোনা সংকটে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা এবং ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নীতিমালা জারি করলো। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে ২০২০ সালের জন্য শেয়ারের বিপরীতে ডিভিডেন্ড ঘোষণার নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১১ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। যেখানে ২০১৯ সালের ব্যাংকগুলোর মুনাফা যথাযসম্ভব অবন্টিত রেখে মূলধন শক্তিশালী করে তারল্য বজায় রাখতে বলা হয়েছিল।
দেশে কার্যরত সকল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে গতকাল পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বর্তমানে দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে করোনামুক্ত রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত বিভিন্ন আর্থিক ও নীতি সহায়তামূলক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। জাতীয় অগ্রগতিকে করোনা সংক্রমণের পূর্ববর্তী ধারায় উপনীত করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে আসন্ন বছরগুলোতে ব্যাংকসমূহের মূলধন কাঠামো অধিকতর সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। এজন্য ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা এবং ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয়টি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে শেয়ারের বিপরীতে ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য খরচ বাদে যেসব ব্যাংক ১৫ শতাংশ বা তার বেশি মূলধন সংরক্ষণ করতে পারবে সে সকল ব্যাংক তাদের সামর্থ্য অনুসারে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদসহ মোট ৩০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে। অবশ্য কোন ক্ষেত্রেই ডেফারেল সুবিধা নেওয়া যাবে না। আর যেসব ব্যাংক কমপক্ষে সাড়ে ১৩ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে সে সকল ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, তাদের সামর্থ্য অনুসারে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ নগদসহ মোট ২৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে।
এছাড়া যেসব ব্যাংক অন্যান্য খরচ মেটানোর পর সাড়ে ১২ শতাংশ বা তার বেশি হয় সে সকল ব্যাংক, সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ নগদসহ মোট ১২ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে।
অন্যদিকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে যে সকল ব্যাংকের মূলধন ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১১ দশমিক ৮৭৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হয় সে সকল ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নগদসহ মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে। আর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে সে সকল ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধন ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ কমপক্ষে ১০ দশমিক ৬২৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮৭৫ শতাংশ হয় সে সকল ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে। তবে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণায় নতুন নীতিমালা
প্রকাশিত: ২০২১-০২-০৮ ১১:০৮:৫০
ছবি: